Panchayat Certificate Apply Online 2025: পঞ্চায়েত সার্টিফিকেট এখন অনলাইনে, ঘরে বসেই পাবেন! জানুন কী ভাবে।

এখনকার যুগ হল ডিজিটাল যুগ আর এই যুগে সবকিছুই ডিজিটাল হয়ে গিয়েছে। তাই পঞ্চায়েতের কিন কাজকর্ম করতে এখন আর বারবার পঞ্চায়েতে যেতে হবেনা। এই কাজগুলো এখন বাড়িতে বসেই করা যাবে। এখন বাড়িতে বসেও SC/ST/OBC কার্ড, জন্ম/ মৃত্য সার্টিফিকেট ও অন্যান্য কাগজপত্র বানানো যাবে।

এরজন্য আর বারবার পঞ্চায়েতে যেতে হবেনা আর লাইনেও দাঁড়াতে হবে না। এরজন্য বাংলার সরকার চালু করেছে “Banglar Panchayat” অনলাইন সার্ভিস পোর্টাল যেটির সাহায্যে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট অনলাইনে বানাতে ও সংগ্রহ করতে পারবেন।

অনলাইনে সবকিছু উপলব্ধ করার জন্যই রাজ্য সরকার এই বাংলার পঞ্চায়েত অনলাইন সার্ভিস পোর্টাল চালু করেছে। আগে একটি কাগজ বানানোর জন্য বারবার খোঁজ নিতে হতো পঞ্চায়েত অফিসে। এরজন্য যেমন সময় নষ্ট হতো তেমনি দুর্নীতিও হতো। কিন্তু এই নতুন নিয়মের জন্য আর জন্য সমস্যা হবেনা। এতে স্বচ্ছতা থাকবে, সময় সাশ্রয় হবে ও দুর্নীতিও কম হবে।

এখন কোন কোন সার্টিফিকেট অনলাইনে পাওয়া যাবে ?

এই পোর্টালে লগইন করলে আপনি অনেকগুলো সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সেই সার্টিফিকেটগুলো হল –

১) আবাসিক শংসাপত্র (Residential Certificate): এটি মূলত স্কুল-কলেজে ভর্তি, চাকরির আবেদন বা অন্য যেকোনো সরকারি কাজের জন্য দরকার হয়।
২) আয় শংসাপত্র (Income Certificate): এটি স্কলারশিপ বা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য দরকার হয়।
৩) জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate):  SC/OBC/ST/EWS সার্টিফিকেট সংরক্ষিত কোটার সুবিধা বা শিক্ষা ও চাকরির জন্য প্রয়োজনীয়।
৪) চরিত্র শংসাপত্র (Character Certificate): চাকরি, ভাড়া বা পাসপোর্টের জন্য এটি খুবই প্রয়োজনীয়।
৫) অবিবাহিত শংসাপত্র (Unmarried Certificate): ভিসা, বিদেশে পড়াশোনা বা কিছু সরকারি প্রকল্পের জন্য এই শংসাপত্রটি প্রয়োজনীয়।
৬) একই ব্যক্তি শংসাপত্র (Same Person Certificate):  নথিতে নামের ভিন্নতা প্রমাণের জন্য এটি খুবই প্রয়োজনীয়।
৭) দূরত্ব শংসাপত্র (Distance Certificate): স্কুল বা কলেজের ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে দূরত্ব যাচাই করার জন্য এটি  জরুরি।

এখানে আবেদন করার জন্য কী কী নথির দরকার ?

অনলাইনে আবেদন করার জন্য আগে থেকেই আপনাকে কিছু কিছু ডকুমেন্ট স্ক্যান করে রাখতে হবে যেমন –

১) সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি
২) আধার কার্ড বা ভোটার কার্ডের কপি
৩) রেশন কার্ড বা বিদ্যুৎ বিল (যেটি আপনার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ দেবে)
৪) আয়ের প্রমাণপত্র (BDO কর্তৃক প্রদত্ত সার্টিফিকেট বা অ্যাফিডেভিট)
৫) জাতিগত শংসাপত্র হিসেবে পূর্ববর্তী কাস্ট ডকুমেন্ট

আপনাকে সম্পূর্ণ অনলাইনে আবেদন করতে হবে। চলুন জেনে নিই কীভাবে আবেদন করবেন –

১) এরজন্য প্রথমে Banglar Panchayat Portal-এ যেতে হবে।
২) তারপর হোমপেজ থেকে “Apply Online” অপশনে ক্লিক করতে হবে।
৩) এরর রেজিস্ট্রেশন করার জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে OTP যাচাই করে নিতে হবে।
৪) এরপর সমস্ত তথ্য ফর্ম ঠিকমতো পূরণ করতে হবে এবং সকল প্রয়োজনীয় নথি
আপলোড করে দিতে হবে।
৫) তারপর সাবমিট করতে হবে। এরপর আপনার কাছে একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর আসবে যেটি দিয়ে আপনি আপনার আবেদন ট্র্যাক করতে পারবেন।

আবেদন স্ট্যাটাস দেখার জন্য কী করতে হবে ?

যখন আপনার আবেদন জমা হয়ে যাবে তখন “Check Application Status” অপশনে ক্লিক করে আপনি অনায়াসেই চেক করতে পারবেন আপনার সার্টিফিকেট অনুমোদিত হয়েছে না হয়নি। যদি pending দেখায় তাহলে বুঝবেন আপনার আবেদন যাচাই করা হচ্ছে, Approved দেখালে বুঝবেন অনুমোদিত হয়েছে, Rejected দেখালে কেন সেটি হয়েছে সেটি বলা হবে,Ready for Download  দেখালে সেটিকে ডাউনলোড করতে পারবেন। তাই এখন থেকে আর পঞ্চায়েতে বারবার যেতে হবে না আপনি অনলাইনেই সব দেখতে পারবেন।

এই সার্টিফিকেটগুলো ৫-৭ দিনের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে। তবে যদি আরো ভালো করে যাচাই করার প্রয়োজন হয় তাহলে এর থেকেও বেশি সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে ইনকাম সার্টিফিকেট বা রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট ১-২ দিনের মধ্যেই তৈরি হয়ে যায়। এই পরিষেবাটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি বড় পদক্ষেপ। এরফলে আর সাধারণ মানুষকে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না। আগে এই সার্টিফিকেটগুলো বানাতে অনেক সময় লাগতো এখন সেটি ঘরে বসেই পাওয়া যাবে। সুতরাং এখন সবকিছুই সহজ হয়ে যাবে।

ভারতে চালু হচ্ছে নাগরিক কার্ড! কি ভাবে এটি করবেন ? কি কাগজ লাগবে ?

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button